
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীর্যার কলারোয়া উপজেলার ৬নং সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তপশিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রার্থিতা জানান দিয়ে পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছেন। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও দোয়া কামনায় ব্যানার, ফেস্টুন, আর উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ইউনিয়ন।স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে চার হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন— সাবেক সফল চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোঃ মোকলেছুর রহমান, তরুণ ও যুব সমাজের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান রাজু এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা গোলাম কবির মাহদী।সম্ভাব্য এই চার প্রার্থী প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাট-বাজারে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময় করছেন।এসএম শহিদুল ইসলাম: ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তার রয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও বিশাল এক কর্মী সমর্থক গোষ্ঠী। তিনি তার পূর্বের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে পুঁজি করে আবারও চেয়ারম্যান পদে লড়তে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তার অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখছেন।মোঃ মোকলেছুর রহমান: এলাকায় দানশীল ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মোঃ মোকলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। করোনাকালীন সংকটসহ এলাকার বিভিন্ন দূর্যোগে মানুষের পাশে থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।মেহেদী হাসান রাজু: তরুণ ও যুব সমাজের আইকন হিসেবে মেহেদী হাসান রাজু এবারের নির্বাচনে বড় চমক হতে পারেন। তিনি ইউনিয়নের অবহেলিত যুব সমাজকে কর্মমুখী করা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।মাওলানা গোলাম কবির মাহদী: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে আধুনিক, সুশাসিত ও ও ইনসাফভিত্তিক সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়ন গড়ার স্লোগান নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মাওলানা গোলাম কবির মাহদী। দলটির সুসংগঠিত ভোটব্যাংক এবং ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের কারণে এলাকায় তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ তার পক্ষে মাঠ পর্যায়ে জোরালো কাজ করছেন।সোনাবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন একটাই আলোচনা— কে হচ্ছেন আগামী দিনের অভিভাবক? চার প্রার্থীর এই চতুর্মুখী প্রচারণায় ভোটাররা আনন্দিত হলেও তারা বলছেন, সৎ, যোগ্য এবং বিপদে-আপদে যাকে পাশে পাওয়া যাবে, তাকেই তারা মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে, এই চার প্রার্থীর প্রচারণার পারদ ততোই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয় করে কে বিজয়ের মালা পরবেন, তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।