
সুরাইয়া আক্তার ইশিতা,নিজস্ব প্রতিবেদক।
একজন সংগ্রামী,আপোষহীন ও দেশপ্রেমিক মায়ের প্রয়াণে জাতি আজ গভীর শোক ও শূন্যতার মুখোমুখি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম,ব্যক্তিগত বেদনা ও শারীরিক অসুস্থতার মাঝেও যিনি আদর্শ ও নৈতিক অবস্থান থেকে কখনো সরে যাননি—তার বিদায়ে দেশ হারালো এক অনন্য অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে।
রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও নৈতিক অবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক।দীর্ঘ সময় কারাবরণ, নানামুখী নির্যাতন এবং প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখেও অন্যায়ের কাছে কখনো আপস করেননি।গুরুতর অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রায় ১৭ বছর দেশের মাটিতে অবস্থান করে তিনি সাহস,আত্মমর্যাদা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন।
দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট ও সুদৃঢ়।নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি জাতিকে সাহস, প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।উত্তাল রাজনৈতিক সময়ে তার নৈতিক দৃঢ়তা বহু মানুষের কাছে আশ্রয়স্থল ও অনুপ্রেরণার বাতিঘর হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে তার ত্যাগ ছিল গভীর,নীরব ও বেদনাবিধুর। ছোট ছেলের অকাল মৃত্যু,জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা—সবকিছুই তিনি বহন করেছেন অসীম ধৈর্য,সহনশীলতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে।বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে তিনি যেন সংগ্রাম ও সাহসের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে এই আকস্মিক প্রয়াণ জাতির শোককে আরও গভীর করেছে।রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্ব বহমান থাকলেও একজন অভিভাবকসুলভ মায়ের শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ।
তার মৃত্যুতে দেশ হারালো কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নয়,বরং হারালো একজন নৈতিক অভিভাবককে—যিনি সংকটে সাহসের এবং সংগ্রামে অবিচলতার প্রতীক হয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
আমরা বিশ্বাস করি,তার জীবন,আদর্শ ও ত্যাগ আগামী প্রজন্মকে ন্যায়,সাহস ও আত্মমর্যাদার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। মহান আল্লাহর দরবারে আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ঐক্য পরিষদ,খুলনা জেলা কমিটি এবং জার্নালিস্ট কো-অপারেশন অফ বাংলাদেশ,খুলনা জেলা কমিটি-এর পক্ষ থেকে এক শোক বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।
শোক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন—
সভাপতি ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান,
সাধারণ সম্পাদক মোঃ আহসান হাবীব,
সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মোঃ জসীম সরদার,
সহ-সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান,
সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাজু,
সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাজাউল্লাহ,
দপ্তর সম্পাদক মোঃ হোসাইনুর রহমান,
তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোঃ রাশেদুজ্জামান,
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মোঃ মাহবুবুর রহমান,
অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ শাহাদাত হোসাইন,
স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ মোঃ রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শোকসভায় নেতৃবৃন্দ তার বর্ণাঢ্য জীবন,রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শিক দৃঢ়তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।