
মোঃ শাহাদাত হোসাইন,পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছায় গোপনে আয়োজন করা একটি বাল্যবিবাহ প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কমলাপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি অনিবন্ধিত কাজীর বাড়িতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল।
তথ্য অনুযায়ী, গদাইপুর ইউনিয়নের মটবাটি গ্রামের মো. জালাল কারিকরের ছেলে মো. শামিম কারিকর (২৩)-এর সঙ্গে কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের দশবাড়িয়া গ্রামের মো. মনিরুল গাজীর মেয়ে মোছা. আরিফা খাতুন (১৫)-এর বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছিল। বয়সসীমা লঙ্ঘন করে এ বিয়ের আয়োজন করা হলে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা বন্ধ করে দেয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী পাত্রপক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অনিবন্ধিত কাজী হিসেবে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে বিয়ের আয়োজন করায় কমলাপুর গ্রামের মো. সোহরাব হোসেনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান চলাকালে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার, পেশকার তুহিন বিশ্বাসসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ, যা কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।