
মোঃ হাবিবুর রহমান গাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক,
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় সিনিয়ার সহকারী শিক্ষক সরদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন আজ ২ রা ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখ অবসর গ্রহণ করছেন। সুদীর্ঘ ত্রিশটি বছর ধর্মীয় শিক্ষার প্রদীপ প্রজ্বলিত করে রেখেছিল জনাব রুহুল আমিন সাহেব। দায়িত্বশীলতার মূর্ত প্রতিক হয়ে ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতির চিন্তাধারাকে আঁকড়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন হাজারও শিক্ষার্থীর হৃদয়ে ধর্মীয় সহনশীলতা সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন এই প্রতিভাযশা ধর্মীয় শিক্ষক জনাব সরদার মোঃ রুহুল আমিন। সময়নিষ্ঠ, ধৈর্যশীল, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও চরম অধ্যবসায় ধ্যানে মগ্ন ও বহুমাত্রিক হাস্যজ্বল ব্যক্তিত্ব জনাব মোঃ রুহুল আমিন সাহেব। এই মহানায়কের অবসর গ্রহনে অত্র বিদ্যালয়ের পরিবেশ আজ মেঘাচ্ছন্ন, বেদনাদায়ক ও শোকাচ্ছন্ন। নিরলস মানুষ গড়ার কারিগর জনাব মোঃ রুহুল আমিন সাহেবের বিদায়ের প্রান্ত সময়ে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অবিভাবক সমাজ ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য স্টাফ সম্প্রদায় শোকাহত ও অশ্রুসিক্ত।
বিদায় বেলার অন্তিম নীরবতা ভেদ করে অত্র নিউজের প্রতিবেদক মুখোমুখি হয়ে অত্র বিদ্যালয়ের সিনিয়ার শিক্ষক জনাব কনক চন্দ্র সরকার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের নয়নের মণি জনাব মোঃ রুহুল আমিন স্যারের বিদায় এক অপূরনীয় শূন্যতা, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা নার্গিস ম্যাডামের কাছে বিদায়ের অনুভতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ আমরা এমন এক হাস্যজ্বল ব্যক্তিকে বিদায় দিতে গিয়ে আমাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। সিনিয়র শিক্ষক ঠাকুরদাস মন্ডলের কাছে অনুভূতি গিয়ে বলেন আজ আমাদের স্কুল পরিবার থেকে এমন একজন সহকর্মীকে বিদায় দেওয়ার এই শূন্যতা আর কখনো পূরণ হওয়ার নয়।
সহকারী শিক্ষক বিমল কুমার তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ক্রন্দন রত অবস্থায় বলেন তার বিদায় এক অপূরনীয় শূন্যতা।
কপোতাক্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু সুকুমার রায় তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন আমার শিক্ষকতার পেশাগত জীবনে আজ আমি একজন মহান হৃদয় ও চরম হাস্যপ্রিয় শিক্ষককে বিদায় দিতে গিয়ে আমি আবেগাপ্লুত, শোকাহত। তার বিদায় অত্র বিদ্যালয়ের জন্য এক চরম শূন্যতা যাহা পূরণ হওয়ার নয়।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদেরও হৃদয়ে বিদায়ের অনুভব পরিলক্ষিত হচ্ছিল।
বিদায় লগ্নে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝে দেখা গেছে চরম হতাশা। অনেক শিক্ষার্থী অশ্রুসিক্ত নয়নে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে এক শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারা তাদের প্রানপ্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। তবুও নিয়তির নির্মম নিয়ম সকলকেই মেনে নিতেই হয়।
ধর্মীয় শিক্ষক জনাব মোঃ রুহুল আমিন সাহেবের অবসর জীবন হোক সুখ, শান্তি, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির। তিনি দীর্ঘজীবি হোক এমনটাই সকলে প্রত্যাশা করেছেন।