1. admin@bangladeshjatiosangbadiksangsthabjss.com : admin :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় ইউপি নির্বাচন: সোনাবাড়ীয়ায় মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ৪ হেভিওয়েট প্রার্থী পাইকগাছায় সড়ক সচেতনতায় নিসচা ইউএনওকে ‘নিরাপদ’ সুভ্যেনির উপহার নুরানী গার্লস একাডেমীর পরিচালক হিসেবে ক্বারী ওসমান গণি আর কতদিন থাকবে! পাইকগাছায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতায় জোর পাইকগাছার মটবাটি রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমে উন্নয়নে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ জেলা পরিষদের এডিপি ও রাজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ, সংশ্লিষ্টদের কৃতজ্ঞতা এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পেশাজীবী সমাজের সহযোগিতা কামনা করলেন এমপি আফজাল জাগো ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান গাছের ডাল ও জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় দম্পতিকে রক্তাক্ত করার অভিযোগ পাইকগাছায় জলবায়ু সহনশীল ওয়াশ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ গৌরনদীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডাস্টবিন বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।

পাইকগাছায় সরদার বাড়ির মেয়ে রত্নগর্ভা ডালিম: ত্যাগ, শাসন ও সফলতার অনন্য গল্প

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৮৯ বার পঠিত

ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান,স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর গ্রামের ইতিহাসে এক প্রেরণার নাম—মাজেদা খানম ডালিম। শত প্রতিকূলতা, বিদ্যুৎহীন অন্ধকার গ্রাম, অশিক্ষিত সমাজ—সব কিছুকে জয় করে তিনি আট সন্তানের জীবন গড়েছেন আলোয়। তাঁর জীবনী শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি মা, ত্যাগ ও শিক্ষার মহান প্রতীক।
অশিক্ষিত হয়েও শিক্ষার স্বপ্ন দেখেছিলেন ডালিম
পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা। তারপর দাদির আপত্তি।
কিন্তু শেখার প্রতি অপরিসীম আগ্রহই তাকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে—
“আমার সব সন্তানকে বিএ পর্যন্ত পড়াবো।”
সেই প্রতিজ্ঞা আজ বাস্তব এবং গৌরবময়।
মানবসেবার প্রতীক ডাক্তার মনসুর আলী গাজী
১৯৬০ সালে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কোর্স শেষ করে সরকারি চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন।
কিন্তু গ্রামে মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখে পিতার নির্দেশেই চাকরি ছেড়ে দেন—মানুষের সেবায়।
গ্রাম-সংলগ্ন দুর্গম এলাকায় সাইকেল ও নৌকায় ঘুরে চিকিৎসা দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ।
ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন পেতে
১৯৬১–১৯৮০ পর্যন্ত ১৯ বছর মামলা চালিয়ে
শেষ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১২৯৯ লাভ করেন—এক ইতিহাস।
অন্ধকার গ্রামের আলোকবর্তিকা ছিলেন ডালিম
বিদ্যুৎবিহীন লস্কর গ্রামে হারিকেনের আলোয় সন্তানদের পড়াতেন।
নিয়ম ছিল কঠোর—
মাগরিবের আজানের আগে সবাইকে বাড়ির ভেতর
নামাজের পর পড়াশোনা
রাত ৩টায় ডাক দিয়ে আবার পড়তে বসানো
শিশুদের ভূতের ভয় দূর করতে ভোর পর্যন্ত কোরআন তিলাওয়াত
সময়মতো খাবার, টিফিন ও শৃঙ্খলা—সব নিজ হাতে
আট সন্তানের আটটি উজ্জ্বল অর্জন
পরিশ্রমী এই দম্পতির আট সন্তান আজ দেশের-বিদেশের সম্মানিত স্থানে—
কহিনুর খানম – এনজিও কর্মকর্তা (অব.)
ড. মাহবুবুর রহমান – আইনশাস্ত্রে পিএইচডি, বিদেশে শিক্ষক
ড. মেহেদী মাসুদ – কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি, সফল আইটি বিশেষজ্ঞ
মোস্তাক আহমেদ – প্রধান শিক্ষক, লস্কর হাই স্কুল
মেরি খানম – গণিতে এমফিল, কলেজের সহকারী অধ্যাপক
অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল – লন্ডন থেকে এলএলএম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী
ডা. মেহেদী হাসান – চক্ষু বিশেষজ্ঞ
মলি খানম – মাস্টার্স, বর্তমানে জাপান প্রবাসী
মানবিকতা ছিল ডালিমের পরিচয়
ডাক্তার মনসুর আলীর রোগীরা দিনের পর দিন অপেক্ষা করলে—
ডালিম তাঁদের জন্য খাবার, বিশ্রাম ও গোসলের ব্যবস্থাও করতেন।
নিজেদের কষ্ট ভুলে মানুষের কষ্ট ভাগ করে নিতেন।
সাহিত্য ও রেডিও সংস্কৃতির প্রেমে ছিলেন তিনি
নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র থেকে বেগম রোকেয়া—
ডালিম পড়েছেন অসংখ্য সাহিত্যকর্ম।
রেডিও নাটক ছিল তার রাতের সঙ্গী।
শেষ কথা
লস্কর গ্রামের সেই অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা—
এটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, একটি যুগের গল্প।
মাজেদা খানম ডালিম প্রমাণ করেছেন—
একজন শিক্ষিত মা পুরো সমাজকে বদলে দিতে পারেন।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বি.জে.এস.এস)
Theme Customized By Shakil IT Park