মোঃ শাহাদাৎ হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
গড়াই নদীর পাড়ে তিন দিন ধরে চলা প্রাণের উৎসব ‘লালন মেলা’ আজ রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাঙ্গ হচ্ছে। মানবপ্রেমের অমর সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণে ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে আয়োজিত এই বাউল মহামিলনমেলায় গত কয়েক দিন ধরে নেমেছিল মানুষের ঢল। আজ সোমবার মেলার শেষ দিনেও দর্শনার্থী ও অনুরাগীদের আনাগোনা এবং আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
গত ১৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আয়োজনে লালনের জীবন, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিবেশিত হয়েছে সাঁইজির কালজয়ী সব গান। একতারা আর দোতারার সুরে সাঁইজির মানবতাবাদী দর্শনের মূর্ছনায় বাউলরা যেমন মেতে ছিলেন, তেমনি মুগ্ধ হয়েছেন দর্শনার্থীরাও। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাধু-সন্ন্যাসীদের পদচারণায় আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক রূপ ধারণ করেছিল।
দর্শনার্থীদের বিনোদন ও কেনাকাটার জন্য আখড়াবাড়ির বাইরে বসা গ্রামীণ মেলার বিকিকিনিও আজ শেষ দিনে চলেছে পুরোদমে। মিষ্টিান্ন, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, বাঁশ-বেতের সামগ্রীসহ নানা গ্রামীণ ঐতিহ্যের পসরায় জমজমাট ছিল পুরো এলাকা। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার কারণে মেলায় আগত লাখো মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পেরেছেন।
রাত পোহালেই উৎসবের আমেজ শেষে আখড়াবাড়ি ছাড়বেন বাউলরা। সমাপনী অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আগামীকাল সকাল থেকে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেবেন তারা। ভাঙা হাটের এই বিষণ্নতার মাঝেও বাউলদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে আগামী বছর আবারও সাঁইজির ধামে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি।