কুমারখালী (কুষ্টিয়া) উপজেলা সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিউক্লিয়াস স্কুলের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে লোটাস চক্ষু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা, অসহায় ও দুস্থ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। শুরু থেকেই সেবা গ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে রক্তচাপ পরীক্ষা, ওজন পরিমাপ, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়াও চক্ষু সেবার আওতায় চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা, বিভিন্ন ধরনের চক্ষু রোগ শনাক্তকরণ এবং চোখের সুরক্ষা ও পরিচর্যা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো অনেক সময় অবহেলিত থেকে যায়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য বিনামূল্যে এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
নিউক্লিয়াস স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ, অসহায় ও দুস্থ রোগীসহ প্রায় ২০০ জন এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। সেবা গ্রহণকারীদের অনেকেই এ উদ্যোগকে জনকল্যাণমূলক এবং সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জীবন হোসেন বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও আমাদের কাজ করতে হয়। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চক্ষু সেবার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তারা এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।