মোঃ শাহাদাত হোসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি।
খুলনার পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জরাজীর্ণ ভবনের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ায় চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে বিচারিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ছাদসহ বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য এবং বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আদালতের সিএসআই অফিস কক্ষের পুরোনো ছাদের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় বিকট শব্দ শুনে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে বিষয়টি দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছাদের এই অংশটি দিনের বেলা আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন কিংবা অফিস সময়ে ধসে পড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জানা যায়, গত দুই বছর ধরে এজলাস কক্ষের ছাদে তাবু টানিয়ে কোনোভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা জেলা সদর থেকে পাইকগাছা উপজেলা প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দূরত্ব ও বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তৎকালীন সরকার ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে না হওয়ায় বর্তমানে এটি ভঙ্গুর ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালত ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদসহ ভবনের অন্যান্য অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভবনের আরও কোনো অংশ ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে আদালতের স্বাভাবিক বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
পাইকগাছা কোর্টের সিএসআই মো. তরিকুল ইসলাম ছাদ ধসে পড়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি দিনের বেলা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এমনকি ছাদের অংশ তার মাথার ওপর পড়ারও আশঙ্কা ছিল বলে জানান তিনি।
আদালত ভবনের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।