মোঃ শাহাদাত হোসাইন,নিজস্ব প্রতিনিধি:
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যয়ে খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর হাতে ‘নিরাপদ’ সুভ্যেনির বই তুলে দিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) পাইকগাছা উপজেলা শাখা।
বুধবার(১৬সেপ্টেম্বর)সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে প্রকাশিত সুভ্যেনির‘নিরাপদ’বইটি ইউএনওর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিসচা পাইকগাছা উপজেলা শাখার সভাপতি ও কপিলমুনি প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এইচ এম সফিউল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন,প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সম্পাদক এম জালাল উদ্দীন,সহসভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম,নিসচা পাইকগাছা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো.ফরিজুল ইসলাম এবং চিকিৎসক ও সাংবাদিক মো. শাহাদাত হোসাইন।
নিসচা নেতৃবৃন্দ জানান, সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং পথচারী, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পাইকগাছা উপজেলা শাখা বিভিন্ন সময়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
শুধু সচেতনতামূলক কার্যক্রম নয়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েও মানবিক ভূমিকা পালন করছে নিসচা পাইকগাছা শাখা। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনায় প্রতিবছর ছাগল, হুইলচেয়ার, ক্র্যাচ, কম্বল, শাড়িসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয় বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) আন্দোলনের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির শাখা বিস্তৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পাইকগাছাতেও নিসচা উপজেলা শাখা গঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাইকগাছা শাখা সড়ক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক গড়তে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে নিসচার এ ধরনের সচেতনতামূলক ও মানবিক উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে মানুষের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।