
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : মোঃ শাহাদাত হোসাইন
খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এতে পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা তেল বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছেন। অধিকাংশ দোকানে এক থেকে দুই লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। অথচ সেই তেলই প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
পৌর সদরের বাসিন্দা বারিকুল ইসলাম বলেন, “আগে যে দামে তেল কিনতাম, এখন সেই তেল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। দোকানিরা বলছে সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই দাম বাড়াচ্ছে।”
চাঁদখালী এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিকাজে সেচ মেশিন চালাতে ডিজেল অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে তেল পাওয়া যাচ্ছে কম, আর যে তেল পাওয়া যাচ্ছে সেটিও আগের তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক গ্যাস ব্যবসায়ী দোকানে সিলিন্ডার নেই বলে জানালেও পরিচিত বা নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংশোধিত স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার আলোকে মার্চ ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক স্বাক্ষরিত ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মার্চ মাসজুড়ে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
তবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাইকগাছায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়তি দামে তেল ও গ্যাস বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাজার তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।