
ডাঃ মোঃ নাজমুল আহসান,নিজস্ব প্রতিবেদক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শতভাগ নিখুঁত না হলেও সামগ্রিকভাবে এটি ফ্রি,ফেয়ার ও ক্রেডিবল হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের জোট ভয়েস নেটওয়ার্ক।
সোমবার রাজধানীর ডিআরইউ’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.জসিমউদ্দীন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,“কোনো নির্বাচন শতভাগ পারফেক্ট হতে পারে না।তবে এবারের নির্বাচন ছিল ফ্রি,ফেয়ার ও ক্রেডিবল।ভবিষ্যতে আরও উন্নত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে সুপারিশ জানানো হবে।”
ড.জসিমউদ্দীন আরও বলেন,বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা জনগণ এবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছে।এ জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।
৩৫৪১টি কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভের সিইও এনায়েত হোসেন জাকারিয়া। প্রতিবেদনে জানানো হয়,কয়েকটি নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থা যৌথভাবে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
তারা সম্মিলিতভাবে ১১০টি আসনের ৩৫৪১টি কেন্দ্রে মোট ১০৬৯জন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেন। এর মধ্যে ১০০৮টি কেন্দ্রে ভোট গণনা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে বিষয়গুলো
প্রতিবেদনে কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—
৭ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশ ও কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে।
আইডি কার্ড ও অনুমোদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় পর্যবেক্ষণে বিঘ্ন ঘটে।
৮ শতাংশ কেন্দ্র বাইরে থেকে শনাক্ত করার মতো অবস্থা ছিল না।
১১ শতাংশ কেন্দ্র ভবনের ওপরের তলায় হওয়ায় প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের যাতায়াতে সমস্যা হয়েছে।
২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না।
১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি দেখা যায়নি।
১৫.৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৪ শতাংশ কেন্দ্রে একটি পক্ষের পোলিং এজেন্ট ছিল না।
৮ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
৪ শতাংশ কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ উঠে এসেছে।
৫.৮ শতাংশ কেন্দ্রে ভোটাররা ভয়ভীতি বা হুমকির কারণে ভোট না দিয়ে ফিরে গেছেন।
বিভিন্ন আসনে অনিয়মের অভিযোগ
ঢাকা-৮ আসনের একাধিক কেন্দ্রে একপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুমিল্লা-১০ আসনে এক পোলিং এজেন্টকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভোলা-২ ও ৪, ঢাকা-৪, গাজীপুর-৩, বাগেরহাট-৪, ফরিদপুর-২, নরসিংদী-৩, চট্টগ্রাম-১২, নোয়াখালী-৬, লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩, সিরাজগঞ্জ-২ আসনেও অনুরূপ ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে।
শেরপুর-১ আসনে শতাধিক সিলমারা ব্যালট পেপার উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা একটি ভালো নির্বাচনকেও ম্লান করে দেয়।
উপস্থিতি
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন ভয়েস নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একরামুল হক সায়েম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর বুরহান উদ্দিন, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির সিইও ইজাজুল ইসলাম এবং বাকেরগঞ্জ ফোরামের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর শাহ আলম হাওলাদার।